দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) অর্থায়ন সম্প্রসারণ এবং নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলতাফ হুসাইন জানিয়েছেন, বর্তমানে ব্যাংকের এসএমই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। এটি দেশের মোট এসএমই অর্থায়নের প্রায় ১০.৫ শতাংশ এবং ইসলামী ব্যাংকিং খাতের এসএমই অর্থায়নের প্রায় ৪৩ শতাংশের সমান।
তিনি বলেন, এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য শরিয়াহভিত্তিক সহজ ও দ্রুত অর্থায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ব্যবসার মূলধন, যন্ত্রপাতি ক্রয়, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যবসা সম্প্রসারণের মতো বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে অর্থায়ন দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নারী, নতুন এবং গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং এবং ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে এসব সুবিধা উদ্যোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ইসলামী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে পল্লী উন্নয়ন স্কিম (আরডিএস) পরিচালনা করছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ৩৫ হাজারের বেশি গ্রামে ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র ও কুটির উদ্যোক্তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ প্রান্তিক মানুষ এই কর্মসূচির মাধ্যমে আর্থিক সেবা গ্রহণ করছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশই নারী।
এসএমই উদ্যোক্তাদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচিও পরিচালনা করছে ব্যাংকটি। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের আর্থিক পরিকল্পনা, হিসাব ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত, ডিজিটাল লেনদেন এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া শাখা ও উপশাখা পর্যায়ে কর্মশালা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা হচ্ছে।
পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের ক্ষেত্রেও বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানান মো. আলতাফ হুসাইন। তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সবুজ অর্থায়নের পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে সহায়ক প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থায়ন সম্প্রসারণ করা হবে।
আগামী পাঁচ বছরে ব্যাংকটির লক্ষ্য হচ্ছে এসএমই খাতে আরও বেশি অর্থায়নের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং টেকসই শিল্পায়নকে এগিয়ে নেওয়া। এ ক্ষেত্রে উৎপাদনমুখী শিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, নারী উদ্যোক্তা, তরুণ উদ্যোক্তা এবং গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে মো. আলতাফ হুসাইন বলেন, ব্যবসা শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান অর্জন, বাজার বিশ্লেষণ এবং একটি বাস্তবসম্মত ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করা জরুরি। একই সঙ্গে শুরু থেকেই স্বচ্ছ আর্থিক ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত ব্যাংকিং লেনদেন, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং গ্রাহককেন্দ্রিক সেবার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তার মতে, সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য মূলধনের পাশাপাশি সততা, অধ্যবসায়, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিকে সুযোগে পরিণত করার মানসিকতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।