সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানোর প্রতিবাদ জানিয়েছেন মডেল ও রাজনীতিবিদ মেঘনা আলম। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়ার কারাজীবনের ইতিহাস নিয়ে উপহাস করা উচিত নয়। একই সঙ্গে সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে খালেদা জিয়ার কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনেও নিজের ভূমিকা ছিল বলে দাবি করেছেন তিনি।
মেঘনা আলমের দাবি, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। পরবর্তী সময়ে তাঁদের পরিচয় হয় এবং বাগদান সম্পন্ন হয়। জুলাইয়ের পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে ওই রাষ্ট্রদূতের প্রথম কূটনৈতিক বৈঠক আয়োজনের ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখেছিলেন বলে জানান মেঘনা।

নিজের বক্তব্যে মেঘনা বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে থাকার সময় সাবেক সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল না। পরে পরিচয় ও বাগদান হয়। জুলাইয়ের পর খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাষ্ট্রদূত ঈসার প্রথম কূটনৈতিক বৈঠকের ব্যবস্থা করার বিষয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা রেখেছেন বলেও দাবি করেন।
মেঘনা আরও বলেন, সৌদি রাষ্ট্রদূত মনে করতেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সহায়তায় নতুন সরকার গঠন করতে পারে। তবে তিনি রাষ্ট্রদূতকে বিএনপির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন। নাহিদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাতের আগেই অন্য রাষ্ট্রদূতদের তুলনায় খালেদা জিয়ার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করার বিষয়েও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন বলে জানান তিনি।
নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেঘনা লেখেন, ‘একজন মহান নেত্রী বিনা অপরাধে কারাবরণ করেছিলেন, আমিও বিনা বিচারে কারাবরণের স্বাদ নিয়েছি। সেই ইতিহাস নিয়ে হাসাহাসি, নোংরামি করবেন না।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই পোস্টে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মেঘনা। তাঁর অভিযোগ, নিজ দেশের মানুষকে অসম্মান করা এবং এ ধরনের আচরণের কারণে বিদেশে বাংলাদেশিদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে বিয়ে করার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পোস্টে মেঘনা লেখেন, দেশের দুই নাগরিকের বিদেশে মৃত্যুর জন্য তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কথিত অপপ্রচার ও অসম্মানজনক আচরণকে দায়ী করছেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার কারাজীবন নিয়ে বিদ্রূপ করায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সমালোচনা করেন তিনি।
মেঘনা আলম কথিত ভুয়া ফটোকার্ড ছড়ানো ব্যক্তিদের সেগুলো মুছে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও সম্মান বজায় রাখতে কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।