শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চট্টগ্রাম সফর ঘিরে জেলাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তাঁর আগমন উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। পরিদর্শনকালে তাঁরা পূজামণ্ডপের সাজসজ্জা, নিরাপত্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের খোঁজখবর নেন।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এটি আমাদের অহংকার, আমাদের শক্তি। এই সম্প্রীতির চিত্র আমরা প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরতে চাই।” দুর্গোৎসব আনন্দঘন ও সুশৃঙ্খলভাবে উদ্যাপন এবং প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে তিনি সরাসরি জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে মণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ, আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ এবং বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
নিরাপত্তায় একাধিক সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ, এসআরবি ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ (বিজিবি) সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছে। সফরস্থল ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। মণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নৃত্য, গীতাপাঠসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনন্দ বাড়ানোর পাশাপাশি চট্টগ্রামের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকেরা।
জেলা প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশেষ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। উৎসবকে আনন্দমুখর করা এবং চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে জেলা প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটি যৌথভাবে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় সফরটি সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।