২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। নতুন নীতিমালার আওতায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভিসা ক্যাটাগরিতে অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও অধিকাংশ ভিসা কার্যক্রম চালু রয়েছে, তবে আবেদন প্রক্রিয়ায় আগের তুলনায় কঠোর যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসসংক্রান্ত আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাবে পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, কর্মসংস্থানভিত্তিক স্থায়ী বসবাস, গ্রিন কার্ড এবং ডাইভারসিটি ভিসার আবেদন নিষ্পত্তিতে অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে। তবে এসব কর্মসূচি বন্ধ করা হয়নি।
ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে নির্ধারিত ভিসা ক্যাটাগরির সাক্ষাৎকার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে নতুন বিধিনিষেধের কারণে সাক্ষাৎকার সম্পন্ন হওয়ার পরও ভিসা ইস্যু হতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগতে পারে।
পর্যটন ও ব্যবসায়িক (ট্যুরিস্ট ও বিজনেস) ভিসার আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তার বিবেচনায় অতিরিক্ত আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ অথবা ভিসা বন্ড জমা দেওয়ার শর্ত আরোপ করা হতে পারে।
শিক্ষার্থী (স্টুডেন্ট) এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসার আবেদন গ্রহণ অব্যাহত থাকলেও নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন এবং স্পন্সর সংক্রান্ত তথ্য যাচাই আরও কঠোর হওয়ায় আবেদন নিষ্পত্তিতে বেশি সময় লাগতে পারে।
বর্তমানে সব ধরনের ভিসা আবেদন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে পূর্বনির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের মাধ্যমে গ্রহণ করা হচ্ছে। আবেদনপত্রে ভুল তথ্য, অসম্পূর্ণ নথি অথবা নির্ধারিত সময়ে তথ্য হালনাগাদ না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন নীতির সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের ওপর। অন্যদিকে ট্যুরিস্ট, শিক্ষার্থী এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা চালু থাকলেও আবেদনকারীদের আগের তুলনায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।