২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ পর্ব ঘিরে ফুটবল বিশ্বে এখন তুমুল উত্তেজনা। অভিজ্ঞ লিওনেল মেসি, উদীয়মান তারকা লামিন ইয়ামাল নাকি গোলমেশিন হ্যারি কেইন শেষ পর্যন্ত কার নেতৃত্বে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি উঠবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়। শিরোপার দৌড়ে থাকা শক্তিশালী দলগুলোর পাশাপাশি ফুটবলপ্রেমীদের নজর রয়েছে এই তিন তারকার দিকেও।
১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী নজির গড়েছে আর্জেন্টিনা। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ওঠার পথে আলবিসেলেস্তেদের একবারও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১৫-এ থাকা কোনো দলের বিপক্ষে খেলতে হয়নি।
কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের আধুনিক র্যাঙ্কিং যুগে এমন কৃতিত্ব দেখানো প্রথম দল হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা।
সেমিফাইনালের আগে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ছিল আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া, জর্ডান, কেপ ভার্দে, মিসর এবং সুইজারল্যান্ড। এই ছয় দলের গড় ফিফা র্যাঙ্কিং ছিল মাত্র ৩৮, যা শেষ চারে ওঠা দলগুলোর পথের কঠিনতার তুলনায় বেশ ব্যতিক্রমী।
বিশ্বকাপের আগের আসরগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, মরক্কো, ফ্রান্সসহ অনেক দলকে সেমিফাইনালে পৌঁছাতে একাধিক শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বাধা অতিক্রম করতে হয়েছে। সে তুলনায় আর্জেন্টিনার পথ ছিল অপেক্ষাকৃত সহজ, যদিও প্রতিটি ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করতে মাঠে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হয়েছে।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে আরও বড় পরীক্ষা। সেমিফাইনালে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারলেই এই যাত্রা আরও স্মরণীয় হয়ে উঠবে। ইতিহাসের এই অনন্য পরিসংখ্যানকে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা দিতে পারবে কি না, সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহ
এবারের বিশ্বকাপ শুধু প্রতিদ্বন্দ্বিতার দিক থেকেই নয়, রেকর্ড পরিমাণ প্রাইজমানির কারণেও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দল তাদের চূড়ান্ত অবস্থান অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ পুরস্কার পাবে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রায় ৬১৭ কোটি টাকা, রানার্স-আপ প্রায় ৪০৭ কোটি, তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল প্রায় ৩৯৮ কোটি এবং চতুর্থ স্থান অধিকারী দল পাবে প্রায় ৩৩৩ কোটি টাকা।
এ ছাড়া কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায় নেওয়া ৫ম থেকে ৮ম স্থানের দলগুলো পাবে প্রায় ২৩৪ কোটি টাকা। শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়া ৯ম থেকে ১৬তম স্থানের দলগুলোর জন্য নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা। ১৭তম থেকে ৩২তম স্থানে থাকা দলগুলো পাবে প্রায় ১৩৬ কোটি এবং ৩৩তম থেকে ৪৮তম স্থানে থাকা দলগুলোর জন্য থাকছে প্রায় ১১১ কোটি টাকা।
বিশ্বকাপের গৌরবময় ট্রফির পাশাপাশি এই বিপুল অর্থ পুরস্কারও দলগুলোর জন্য বাড়তি প্রেরণা হয়ে উঠবে। এখন অপেক্ষা, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের শেষ বাঁশি বাজার পর ইতিহাসের সোনালি ট্রফি কার হাতে ওঠে।