🏠︎ » খেলাধুলা » ফুটবল » মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এমবাপ্পে

মেসিকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় এমবাপ্পে

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে আরেকটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ উন্নীত করেছেন। এর ফলে বিশ্বকাপে ২১ গোল করা লিওনেল মেসিকে পেছনে ফেলেছেন এই ফরাসি তারকা।

শনিবার অনুষ্ঠিত তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ৬-৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের কাছে পরাজিত হয় ফ্রান্স। দল জিততে না পারলেও দুটি গোল করে নতুন ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেন এমবাপ্পে। তবে রেকর্ড গড়ার আনন্দের চেয়ে ফাইনালে খেলতে না পারার হতাশাই তার কণ্ঠে বেশি ফুটে উঠেছে।

চলতি আসরে এমবাপ্পে এখন পর্যন্ত ১০টি গোল করেছেন এবং সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও ৪টি গোল। এই পারফরম্যান্সে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে। ফাইনালে অন্য কোনো ফুটবলার তার গোলসংখ্যা অতিক্রম করতে না পারলে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার স্বীকৃতি পাবেন তিনি। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ৮ গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন এমবাপ্পে।

ব্যক্তিগত অর্জন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এমবাপ্পে বলেন, বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ওঠা অবশ্যই গর্বের, কিন্তু তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ফাইনালে দলের হয়ে লড়াই করার সুযোগ পাওয়া। সেই স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় রেকর্ডের আনন্দও অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে।

এক বিশ্বকাপে ১০ গোল করে এমবাপ্পে ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলদাতাদের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছেন। এক আসরে তার চেয়ে বেশি গোল করতে পেরেছেন কেবল ১৯৫৮ সালে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৩) এবং ১৯৫৪ সালে হাঙ্গেরির সান্দর কোকসিস (১১)। জার্মান কিংবদন্তি গার্ড মুলারও ১৯৭০ বিশ্বকাপে ১০ গোল করেছিলেন।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমার্ধে চার গোলে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। বিরতির পর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে তারা। এমবাপ্পে একটি গোল করে ব্যবধান কমান, পরে ব্র্যাডলি বারকোলা ও উসমান দেম্বলের গোল ফ্রান্সকে ম্যাচে ফেরার আশা জাগায়। এরপর নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশ্বকাপে নতুন গোলের রেকর্ড গড়েন এমবাপ্পে। তবে শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি ফরাসিদের।

ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, প্রথমার্ধে দল নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারেনি। বিরতির পর ভালোভাবে ফিরে আসলেও শুরুতে করা ভুলের মূল্য দিতে হয়েছে।

এ ম্যাচটি ছিল ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমের দায়িত্বে শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ। এমবাপ্পে জানান, জয় দিয়ে কোচকে বিদায় জানাতে চেয়েছিলেন তারা। যদিও তা সম্ভব হয়নি, তবুও একটি ম্যাচ কখনোই দেশমের দীর্ঘদিনের সাফল্য ও অবদানকে ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

দিদিয়ের দেশমের অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়ার পর ২০২৬ বিশ্বকাপে তাদের যাত্রা শেষ হয় সেমিফাইনালে। তবুও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে রাখলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ