নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনে তিতুমীর ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসের যাত্রাবিরতির দাবিতে রেলপথ অবরোধ করেছেন স্থানীয়রা। রেলওয়ে ও প্রশাসনের আশ্বাসের পর দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। এতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর ওই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় দুই হাজার মানুষ অংশ নেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, মির্জাগঞ্জ রেলস্টেশনটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও তিতুমীর এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন এখানে থামে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি স্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্ম চালু না থাকায় যাত্রীসেবায়ও নানা সমস্যা হচ্ছে। এসব দাবি পূরণের দাবিতে তারা রেলপথ অবরোধ করেন।
অবরোধের কারণে চিলাহাটি থেকে খুলনাগামী রকেট মেইল ট্রেন চিলাহাটি স্টেশনে আটকা পড়ে। অন্যদিকে খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রূপসা এক্সপ্রেসকে ডোমার স্টেশনে থামিয়ে রাখা হয়। এতে কয়েকটি ট্রেনের চলাচল ব্যাহত হওয়ায় যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী, বাংলাদেশ রেলওয়ের পার্বতীপুর বিভাগের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আলোচনা শেষে ইউএনও শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, স্থানীয় জনগণের দাবিগুলো যৌক্তিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের জন্য সুপারিশ করা হবে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হাসান বলেন, ট্রেনের যাত্রাবিরতি ও প্ল্যাটফর্ম চালুর বিষয়গুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত। আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী তা বিবেচনা করা হবে।
রেলওয়ে ও প্রশাসনের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেন। তবে দুই মাসের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পরে দুপুর ১২টার দিকে ট্রেন চলাচল আবার স্বাভাবিক হয়। অবরোধের কারণে আটকে থাকা ট্রেনগুলোও নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।