🏠︎ » উন্নয়ন ও জনদুর্ভোগ » চার ঘণ্টা পর টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, আহত ফায়ার সার্ভিস সদস্য

চার ঘণ্টা পর টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে, আহত ফায়ার সার্ভিস সদস্য

গাজীপুরের টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ওষুধ উৎপাদনকারী কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআরবি, পুলিশ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সদস্যদের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা সোয়া ২টার দিকে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ। তিনি জানান, বেলা ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে আরও সময় প্রয়োজন।

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, কারখানার বিভিন্ন তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধ উৎপাদনের উপকরণ থাকায় আগুন নেভানোর কাজে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে ধোঁয়া ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। তবে আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য আহত হন। তাঁর শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

যেভাবে আগুনের সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে টঙ্গী শিল্প এলাকার স্কুইব রোডে অবস্থিত ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ইউনিট-২-এর সাততলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুন দেখতে পান কারখানার কর্মীরা। শুরুতে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হলেও আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে টঙ্গী, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন ফায়ার স্টেশন থেকে ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম শুরু করে। সেনাবাহিনী, বিজিবি, এসআরবি, পুলিশ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট সদস্যরাও এ কাজে সহায়তা করেন।

দাহ্য পদার্থের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জ

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক জানান, কারখানার ভেতরে থাকা রাবার ও অ্যালুমিনিয়ামজাত দাহ্য উপকরণের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে। পাশাপাশি আগুন যাতে আশপাশের ভবনে ছড়িয়ে না পড়ে, সে বিষয়েও সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

প্রাথমিকভাবে কারখানার দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ ও অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

যান চলাচলে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে স্থানীয়রা

আগুনের কারণে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে এলাকাটি ঘিরে রাখায় প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে গণপরিবহন চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতার মধ্যেও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।

ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল বলেন, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ