🏠︎ » চিকিৎসা » মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা: জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে

রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, ঘটনার পর পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। বিভিন্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

শনিবার রাজধানীর মহাখালী কড়াইল বস্তির টিএনটি খেলার মাঠে ‘দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, হামলার খবর পেয়ে শুক্রবার তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে রাতের ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তিনি পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপকমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। পুলিশ তাকে জানিয়েছে, ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ঘটনায় যে-ই জড়িত থাকুক, তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, মুখোশধারী দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করেন। পরে তারা ওষুধ, ভ্যাকসিন, মূল্যবান যন্ত্রপাতি, নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যায়। একপর্যায়ে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার দাবি করেছেন, এ ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তিনি জানান, সরকারি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

তার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে প্রায় ২৫০ জন মুখোশধারী ব্যক্তি ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর ব্যানারে প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়। তারা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশের পর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। পরে স্থাপনাটি দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের রেজিস্টার ও নথিপত্র, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন সরঞ্জাম, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, স্টিলের আলমারি ও ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার এবং অন্যান্য আসবাব নিয়ে যায়।

পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হয় এবং সেখানে একটি সমিতির সাইনবোর্ড লাগানো হয় বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দাবি, প্রায় ১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।

এদিকে জায়গাটি দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ থাকার অভিযোগও রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে একটি পক্ষ সমিতির ব্যানারে জায়গাটি দখলে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কোনো সমিতি বা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মধ্যে জায়গা বা স্থাপনা নিয়ে আইনি বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন হাতে তুলে নিয়ে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ নেই।

ভাঙচুরের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সেখানে ইতোমধ্যে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশনের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

দীর্ঘ সময় ধরে স্থাপনা ভাঙার ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন কেন তা ঠেকাতে পারেনি—এমন প্রশ্নে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, তার জানা মতে সেখানে পুরোপুরি কোনো ভবন ছিল না; টিনশেড ও সেমিপাকা ধরনের স্থাপনা ছিল। তবে যে-ই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক, তাদের কোনো সমর্থন নেই। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলার কারণে সরকারি হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিসহ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে টিকাদান কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষয়ক্ষতি পূরণ করে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পুনরায় চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় ক্লিনিকের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। ডা. নাসরিন আখতার বলেন, এ হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর আঘাত নয়, দরিদ্র, শিশু ও অসহায় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ওপরও এর প্রভাব পড়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ডিএমপির শাহ আলী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, রাড্ডা নামের একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ