বগুড়া প্রতিনিধি :
দুধের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খামারিদের উৎপাদিত দুধের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সমবায়ভিত্তিক সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও সরাসরি বিপণনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমার পাশাপাশি খামারি ও ভোক্তা উভয়েই উপকৃত হবেন বলে মনে করছেন তাঁরা।
সমবায় অধিদপ্তরের বাস্তবায়নাধীন ‘দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্প’-এর উদ্যোগে পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ায় ১০ দিনব্যাপী দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বিপণন বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ শেষে গতকাল সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক মো. সেলিম ফকির, এনডিসি। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, শুধু দুধের উৎপাদন বাড়ালেই হবে না; উৎপাদিত দুধের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করাও জরুরি। এ জন্য সমবায়ীদের মাধ্যমে দুধ সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং সরাসরি বাজারজাতকরণের কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

সমবায়ীরা নিজেরাই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে দুধ থেকে দই, ঘি, ছানা, মাখনসহ বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করতে পারেন। এতে কাঁচা দুধ বিক্রির পাশাপাশি মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হবে।
বক্তারা আরও বলেন, সমবায়ভিত্তিক বিপণন ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে দুধের বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কমবে। একই সঙ্গে খামারিরা তাঁদের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য এবং ভোক্তারা নিরাপদ ও মানসম্মত দুগ্ধজাত পণ্য পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক মো. আব্দুল মজিদ প্রামাণিক। স্বাগত বক্তব্য দেন আরডিএর ফুড ইঞ্জিনিয়ার ও উপপরিচালক ড. মনিরুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণের কোর্স পরিচালক ছিলেন ড. শেখ মেহ্দী মোহাম্মদ। কোর্স সমন্বয়ক ছিলেন আরডিএর ফুড ইঞ্জিনিয়ার ও সহকারী পরিচালক মো. শাখাওয়াত হোসেন এবং সমবায় অধিদপ্তরের ডেপুটি সহকারী নিবন্ধক মোসা. কামরুন্নাহার।
সমাপনী অনুষ্ঠানে দুগ্ধ খাতের উন্নয়নে সমবায়ীদের দক্ষতা বৃদ্ধি, মানসম্মত দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদন এবং আধুনিক বিপণন ব্যবস্থার সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।