🏠︎ » অর্থনীতি » আলু বিক্রিতে বস্তাপ্রতি ৪৯০ টাকা লোকসান, অর্ধেকে নেমেছে বিক্রি

আলু বিক্রিতে বস্তাপ্রতি ৪৯০ টাকা লোকসান, অর্ধেকে নেমেছে বিক্রি

মৌসুমের শুরুতে ভালো দামের আশায় হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করেছিলেন জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চার মাস পেরিয়ে গেলেও দাম বাড়ার পরিবর্তে আরও কমেছে। ফলে বিগত বছরের তুলনায় এবার হিমাগার থেকে আলু বিক্রির হার অর্ধেকে নেমে এসেছে। এতে মূলধন ও হিমাগার ভাড়া তোলাই কঠিন হয়ে পড়েছে। বরং প্রতি বস্তা আলু বিক্রিতে গড়ে ৪৯০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।

বর্তমানে হিমাগার গেটে ৬০ কেজি ওজনের সাদা ডায়মন্ডসহ বিভিন্ন জাতের এক বস্তা আলু বিক্রি হচ্ছে ৯২০ থেকে ৯৬০ টাকায়। অথচ উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়া মিলিয়ে প্রতি বস্তার খরচ পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা।

এদিকে আমন ধানের মৌসুম চলায় কৃষকদের এখন মাঠের খরচ মেটাতে হিমাগারে রাখা আলু বিক্রির প্রয়োজন হলেও বাজারে চাহিদা ও দাম কম থাকায় তারা আলু তুলতে পারছেন না। এতে আমন চাষের অর্থসংস্থানে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন মোকামে চাহিদা কম থাকায় বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় আলু ব্যবসায়ীরাও। কালাই উপজেলার পুনট হাটের ব্যবসায়ী মিঠু ফকির ও গোলাম মোস্তফা জানান, কৃষকদের কাছ থেকে আলু কিনে বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর পর প্রতি ট্রাকে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং প্রতি বস্তায় ৫০ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে। এ কারণে অনেক ব্যবসায়ী আলু কেনাবেচা বন্ধ রেখেছেন।

একই ধরনের উদ্বেগে রয়েছেন হিমাগার মালিকরাও। কালাইয়ের পুনট কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থাপক বিপ্লব কুমার জানান, তাদের হিমাগারে সংরক্ষিত আড়াই লাখের বেশি বস্তা আলুর মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ৪৫ হাজার বস্তা খালাস হয়েছে। দাম কম থাকায় কৃষকরা আলু তুলতে আগ্রহী নন। এতে হিমাগারের ভাড়ার অর্থ আদায় নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

টানা কয়েক বছর লোকসানের মুখে থাকা কৃষকরা এখন আলু বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নিতে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

জয়পুরহাট জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক একেএম সাদিকুল ইসলাম বলেন, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি হওয়ায় বাজারে আলুর দাম কমেছে। তবে আলুর বাজার সচল রাখা এবং কৃষক যেন ন্যায্য মূল্য পান, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।

Noxoit Ads

আরও পড়ুন

সর্বশেষ